মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, অবরোধ আরোপ! নেপিডোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান


মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতায় জড়িত থাকায় বর্মী সেনাদের দেয়া সকল সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার ও সকল বর্মী সেনা বা সেনা কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমনে নিষেদাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপসহ আরও কিছু ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কোন নিপীড়ন হলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ"।  এর আগে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বই রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য দায়ী।
তিনি মিয়ানমারকে হুশিয়ারী দিয়ে বলেছিলেন বিশ্ব কোন নিষ্ঠুরতার প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে বসে থাকবে না।
এখন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতি অনুযায়ী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের ওপর সীমিত মাত্রায় ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বলেছেন, "রাখাইনে সংঘটিত ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি"।
তিনি বলেন মিয়ানমার সরকার, সশস্ত্র বাহিনীকে অবশ্যই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। জরুরী মানবিক সহায়তা এবং রাখাইন থেকে যারা পালিয়ে গেছে তারা যেনো নিরাপদে ফিরে আসতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে তিনি বলেছেন রোহিঙ্গা সমস্যার মূলে যে বৈষম্য সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
জাতিসংঘের হিসেবে গত ২৫শে অগাস্টের পর থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লক্ষ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

বিস্তারিত ভিডিওতে - 



এদিকে নেপিডোতে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকের পর আসাদুজ্জামান খান টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দুই দেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে এই যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথ এই কমিটি ঠিক করবে রোহিঙ্গাদের কিভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। নেপিডোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান
"তারা ফেরত নেওয়ার কথা বলেছে, তারা জানিয়েছে তাদের সরকার প্রধান কফি আনান কমিশন বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কমিটি তৈরি করেছেন.. কিন্তু আমরা বলেছি বাংলাদেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির তত্বাবধানেই কফি আনান কমিশনের বাস্তবায়ন হতে হবে।"
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের ঐ কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে যা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তিনি রাখাইনে নির্যাতন বন্ধের দাবি করেছেন যাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়। "তারা বলেছেন কোনো নির্যাতন হচ্ছেনা, তারা (রোহিঙ্গারা) নিজেরাই চলে যাচ্ছে। আমি বলেছি চলে যাওয়া ঠেকান আপনারা।"
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্বীকার করেন, তিনি নিজে রাখাইনে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাননি।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে মাইন পাতার প্রসঙ্গ তোলার পর, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ "অন্যদের" দোষারোপ করেছে। "তবে মিয়ানমার বলেছে তারা মাইন অপসারনের উদ্যোগ নেবেন।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল (বুধবার) তার সাথে অং সান সূ চির বৈঠক হবে। বাংলাদেশের এসব দাবি, প্রস্তাব এবং বক্তব্য তখন তিনি আবারো তুলবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ 'আরসা জঙ্গিদের' ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে।


Comments

Popular posts from this blog

ROHINGYA REFUGEES SHARE STORIES OF SEXUAL VIOLENCE

CATALONIA DECLARES INDEPENDENCE BUT WHAT WILL BE NEXT IS WHOLE WORLD ACCEPT ?

MYANMAR'S ROHINGYA REPORT 'ABSURD', RIGHTS GROUP SAYS